যে ৫ সাধারণ ওষুধ কিডনির ক্ষতি করতে পারে
অনেক মানুষ বুঝতেই পারেন না যে বছরের পর বছর যে ওষুধগুলো নিয়মিত খাচ্ছেন, সেগুলোর কিছু ধীরে ধীরে কিডনিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ব্যথানাশক, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, সিটি–স্ক্যানের রেডিওকনট্রাস্ট ডাই, কিংবা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ সবই কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে নেওয়া হলে বা আগে থেকেই যাদের ঝুঁকি আছে তাদের ক্ষেত্রে।
ইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন, ডাইক্লোফেনাক এসব NSAIDs জাতীয় ব্যথানাশক ঘরে ঘরে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এসব ওষুধ কিডনির রক্তনালি সংকুচিত করে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়।
ডা. উমেশ গুপ্তা বলেন, নিয়মিত ও উচ্চমাত্রায় NSAIDs নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে, সর্বনিম্ন ডোজে এবং স্বল্প সময়ের জন্য এসব ওষুধ নেওয়া উচিত। বিকল্প হিসেবে প্যারাসিটামল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, তবে ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জেন্টামাইসিন, অ্যামিকাসিন, টোবরামাইসিন এসব অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক গুরুতর সংক্রমণে খুবই কার্যকর, কিন্তু একই সঙ্গে কিডনির কোষে জমে ক্ষতি করে। ডোজ বেশি হলে বা ঠিকভাবে মনিটর না করলে দ্রুত কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডিহাইড্রেশন, লিভার রোগ বা অন্যান্য ক্ষতিকর ওষুধের সঙ্গে নিলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কিত জটিল সংক্রমণে ব্যবহৃত ভ্যানকমাইসিনও কিডনি ক্ষতির জন্য পরিচিত। দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি, উচ্চমাত্রা বা অন্য কিডনি–ক্ষতিকর ওষুধের সঙ্গে ব্যবহারে Acute Kidney Injury হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই চিকিৎসকরা নিয়মিত কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
সিটি স্ক্যান বা অ্যাঞ্জিওগ্রাফির সময় ব্যবহৃত রেডিওকনট্রাস্ট ডাই অনেকের কিডনিতে Contrast-Induced Nephropathy তৈরি করতে পারে। এসব ডাই কিডনির রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে। ডায়াবেটিস, CKD, ডিহাইড্রেশন বা বারবার কনট্রাস্ট ব্যবহার করার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বেশি।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ACEI/ARB–জাতীয় ওষুধ যেমন লিসিনোপ্রিল, লসার্টা অনেক রোগীর জীবন বাঁচায়। কিন্তু ডিহাইড্রেশন, NSAID বা রেডিওডাইয়ের সঙ্গে ব্যবহারে এগুলো কিডনিতে রক্তচাপ কমিয়ে হঠাৎ কার্যক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। ডা. গুপ্তা জানান, এসব ওষুধ কখনো হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না। তবে রোগী যদি পানি শূন্যতায় ভোগেন, বমি বা ডায়রিয়া হয় তাহলে চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক জানাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভার–দ্য–কাউন্টার ব্যথানাশককে অনেকেই নিরাপদ মনে করেন, কিন্তু দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহার করলে এগুলো নীরবে কিডনিকে ক্ষতি করতে পারে। একাধিক ওষুধ একসঙ্গে নেওয়ার ফলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই যেকোনো ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের আগে কিডনি পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।