এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে? জেনে নিন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের প্রচার-প্রচারণা শেষে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এ অবস্থায় অনেক ভোটারের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে—ভোটের দিন যদি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্ট কার্ড খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে কি ভোট দেওয়া যাবে? আবার যারা নতুন ভোটার, কিন্তু এখনো প্লাস্টিক কার্ড হাতে পাননি, তাদের মাঝেও একই ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছে।
এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া সম্ভব?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো—হ্যাঁ, এনআইডি কার্ড ছাড়াও ভোট দেওয়া যাবে। অনেকেই মনে করেন, এনআইডি কার্ডই ভোট দেওয়ার একমাত্র শর্ত। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোটার তালিকা। আপনার নাম যদি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে কার্ড সঙ্গে থাকুক বা না থাকুক—আপনি ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
সহজভাবে বলা যায়, ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে চেক বই সুবিধাজনক হলেও চেক বই হারালেই টাকা হারিয়ে যায় না। পরিচয় ও তথ্য যাচাই হলেই লেনদেন সম্ভব। ভোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও ছবি থাকলে এবং পোলিং অফিসার যদি আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে আপনাকে ভোট দিতে দেওয়া হবে।
ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি
ভোটগ্রহণ চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোট দিতে যাওয়ার আগে নিজের সঠিক ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়া ভালো। এতে সময় বাঁচবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো যাবে।
এই তথ্য জানার জন্য নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায়। এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করেও ভোটকেন্দ্র ও ভোটার সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে। এ ক্ষেত্রে অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। তথ্য জানতে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে।
এসএমএসের মাধ্যমেও তথ্য পাওয়া যাবে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালে ফিরতি বার্তায় ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।
ভোট দেওয়ার ধাপগুলো
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার প্রথমে ভোটার তালিকা অনুযায়ী আপনার নাম ও ক্রমিক নম্বর যাচাই করবেন। সব ঠিক থাকলে আপনার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে।
এরপর আপনাকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। ব্যালট পেপারের পেছনে অফিসিয়াল সিল ও প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর রয়েছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেবেন।
এরপর নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থী বা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ অপশনে রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্টভাবে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট পেপার এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে, যাতে কালি অন্য কোনো চিহ্নে না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বি ভাঁজ করাই নিরাপদ।
ভাঁজ করা ব্যালট সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে এবং দেরি না করে কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।
এবার যেভাবে ভোট হবে
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভোটগ্রহণ হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে—কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে। ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কেবল তথ্য প্রদান ও প্রশাসনিক সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Directory Medisine – Medical Elementor Template Kit Meditest - Health Care Medical & Hospital Theme Medive – Health & Medical Elementor Template Kit Mediway – Health & Medical Elementor Template Kit Medizco – Medical Health & Dental Care Clinic WordPress Theme MedKit – Health & Medical Elementor Template Kit MEDO – Medical Delivery Startup Elementor Template Kit Medova – Health & Medical WordPress Theme MedUp – Medical SaaS Elementor Template Kit Meduvid – Medical & Dental Clinic Elementor Template Kit