ঘাড় ঝুঁকিয়ে ফোন দেখছেন? এই অভ্যাস থেকেই হতে পারে স্ট্রোক
বাসে, অফিসে, ক্লাসে কিংবা বিছানায়—চারদিকে একটাই দৃশ্য: মাথা নিচু, ঘাড় বাঁকা, চোখ মোবাইল স্ক্রিনে। এই অভ্যাস এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে কেউ আর গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই ছোট অভ্যাসটাই ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে—এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
কীভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়?
নিউরোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘাড় ঝুঁকিয়ে ফোন দেখলে ঘাড়ের মাংসপেশি ও রক্তনালিতে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। বিশেষ করে সার্ভাইক্যাল স্পাইনের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে
ঘাড়ের রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে
মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যেতে পারে
মাথা ঘোরা, ঘাড় ব্যথা, হাত ঝিনঝিন করা শুরু হতে পারে
এই সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন অবহেলা করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ধূমপানের অভ্যাস আছে।
‘টেক্সট নেক’ থেকে বড় বিপদ
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হচ্ছে “টেক্সট নেক সিনড্রোম”। সাধারণ অবস্থায় মানুষের মাথার ওজন প্রায় ৫ কেজি হলেও, ঘাড় ৪৫ ডিগ্রি ঝুঁকালে সেই চাপ ২০ কেজিরও বেশি হয়ে যায়। দিনের পর দিন এই চাপ ঘাড়ের স্নায়ু ও রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা—এই সমস্যা ভবিষ্যতে তরুণ বয়সেই স্ট্রোক বা ব্রেইন সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তরুণরাই বেশি ঝুঁকিতে কেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে স্ট্রোককে বয়স্কদের রোগ বলা হলেও এখন চিত্র বদলাচ্ছে।
অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার
দীর্ঘ সময় বসে থাকা
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
ঘুমের অনিয়ম
এই সবকিছু মিলেই তরুণদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না?
চিকিৎসকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে—
ঘাড় বা মাথায় তীব্র ব্যথা
হঠাৎ মাথা ঘোরা
হাত বা পা অবশ লাগা
কথা জড়িয়ে যাওয়া
চোখে ঝাপসা দেখা
এগুলো স্ট্রোকের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
ফোন চোখের সমতলে ধরে ব্যবহার করুন
একটানা ২০–৩০ মিনিটের বেশি নিচু হয়ে ফোন দেখবেন না
নিয়মিত ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করুন
দীর্ঘ সময় বসে থাকলে বিরতি নিন
শেষ কথা
মোবাইল ফোন জীবন সহজ করেছে, কিন্তু ভুল ভঙ্গিতে ব্যবহার জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আজকের ছোট অসচেতনতা আগামী দিনের বড় বিপদের কারণ হতে পারে—এখনই সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের।